ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নিয়ে বিতর্কে যুবককে ছুরিকাঘাত

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ Time View

ছবি-সংগৃহিত।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় চলমান জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে সাকিব (২৫) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা এলাকার মোল্লা বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাকিব ওই এলাকার ইউসুফ বাবুল মাস্টারের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, একই বাড়ির অটোরিকশাচালক তারেকের অটোরিকশা ভাড়া করে সাকিব একটি দাওয়াতে যান। দাওয়াত শেষে বাড়ি ফেরার পথে চলমান জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনার মধ্যে সাকিব তারেককে চড় মারেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থেমে গেলেও এ ঘটনার রেশ ধরে পরে বিকেলের দিকে সাকিবের সঙ্গে তারেক ও তার ভাই ইসমাইলের বাকবিতণ্ডা হয়।

পরিবারের দাবি, তখন স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে রাতের দিকে কাউসার মোল্লার ঘরের পাশ দিয়ে একা হেঁটে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা সাকিবকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা সাকিবকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত সাকিবের মা শাহানারা বেগম জানান, ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার ছেলে তারেককে চড় দেয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাতে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়। তার গলায় দুটি এবং পেটে একটি ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। বর্তমানে সে অপারেশন থিয়েটারে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তার ছেলে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়। পরিবার জানায়, সাকিব ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন।

এদিকে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ফরিদগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এক প্রার্থী দাবি করেন, আহত সাকিব তাদের দলের কর্মী এবং রাজনৈতিক কারণে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে সাকিবের পরিবার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটেছে, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

অভিযুক্ত তারেক ও তার ভাই ইসমাইল পেশায় অটোরিকশাচালক। তারা একই এলাকার আহছান মোল্লার ছেলে বলে জানা গেছে।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে তিনি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হাজীগঞ্জ স্বর্ণকলি হাই স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

ফরিদগঞ্জে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নিয়ে বিতর্কে যুবককে ছুরিকাঘাত

Update Time : ১১:০৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় চলমান জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে সাকিব (২৫) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা এলাকার মোল্লা বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাকিব ওই এলাকার ইউসুফ বাবুল মাস্টারের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, একই বাড়ির অটোরিকশাচালক তারেকের অটোরিকশা ভাড়া করে সাকিব একটি দাওয়াতে যান। দাওয়াত শেষে বাড়ি ফেরার পথে চলমান জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনার মধ্যে সাকিব তারেককে চড় মারেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থেমে গেলেও এ ঘটনার রেশ ধরে পরে বিকেলের দিকে সাকিবের সঙ্গে তারেক ও তার ভাই ইসমাইলের বাকবিতণ্ডা হয়।

পরিবারের দাবি, তখন স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে রাতের দিকে কাউসার মোল্লার ঘরের পাশ দিয়ে একা হেঁটে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা সাকিবকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা সাকিবকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত সাকিবের মা শাহানারা বেগম জানান, ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার ছেলে তারেককে চড় দেয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাতে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়। তার গলায় দুটি এবং পেটে একটি ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। বর্তমানে সে অপারেশন থিয়েটারে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তার ছেলে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়। পরিবার জানায়, সাকিব ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন।

এদিকে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ফরিদগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এক প্রার্থী দাবি করেন, আহত সাকিব তাদের দলের কর্মী এবং রাজনৈতিক কারণে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে সাকিবের পরিবার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটেছে, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

অভিযুক্ত তারেক ও তার ভাই ইসমাইল পেশায় অটোরিকশাচালক। তারা একই এলাকার আহছান মোল্লার ছেলে বলে জানা গেছে।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে তিনি জানান।