হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চার দিনের পরিবর্তে মাসে দুই দিন হাজীগঞ্জ বাজার বন্ধ রাখার দাবিতে সভাপতি আলহাজ্ব মো. আসফাকুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে রোববার (৩১ আগস্ট) বিকালে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাব উদ্দিন সাবুর উপস্থাপনায় সভায় কার্যকরি পরিষদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক ও হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান মাহমুদ, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মো. আবুল কাসেম, ৩নং ওয়ার্ডের কমিশনার জিসান আহমেদ ছিদ্দীকি।
এসময় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওলাদ হোসেন, কবির হোসেন, শাহপরান, আবু হেনা বাবলু, কাজী জিয়াউর রহমান, শাহাদাত হোসেন মিশু, আলী আশরাফ, শামসুদ্দীন খাঁন নূর প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক শ্রম মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তরের কুমিল্লা উপ-মহাপরিদর্শকের সৈয়দ নাজমুল রাশেদ এর নির্দেশনার আলোকে গত এক মাস ধরে প্রতি শনিবার হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে। যার ফলে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন।
তারা বলেন, এ ব্যবসার মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ, দোকান ও গোডাউন ভাড়া, কর্মচারী খরচ, বিদ্যুৎ বিল, বিভিন্ন সরকারি ফি’র খরচ’সহ ব্যবসায়ীরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। এর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা, এলাকায় এলাকায় ও বিভিন্ন গ্রামীন হাটবাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকার কারণে হাজীগঞ্জ বাজারে ব্যবসা ও আয়ের (লাভ) পরিধি কমে আসছে। এর মধ্যে শনিবার বন্ধ থাকায় হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্রেতা হারাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা আরো বলেন, যদি সরকারি বিধি হয়ে থাকে তাহলে জেলার সকল হাটবাজার শহর কিংবা গ্রামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতি শনিবার বন্ধ থাকবে এবং তা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু চাঁদপুরের সকল হাট-বাজার খোলা থাকলেও শুধুমাত্র হাজীগঞ্জ বাজার বন্ধ রাখা হচ্ছে কেন ? হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা বৈষম্যের শিকার কেন ?
মাসে চারদিনের পরিবর্তে দুইদিন বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, জেলার অন্যতম সমৃদ্ধ, প্রসিদ্ধ ও বৃহৎ হচ্ছে হাজীগঞ্জ বাজার। তাই, এক সপ্তাহে শনিবার রাস্তার (কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক) উত্তর পাশ খোলা থাকলে দক্ষিণ পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। একইভাবে পরের শনিবার রাস্তার দক্ষিণ পাশ খোলা থাকলে উত্তর পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এভাবে মাসে দুই দিন সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
সরকারি বিধি ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা আরো বলেন, হাজীগঞ্জ বাজারে ছোট-বড় প্রায় তিন সহস্রাধীক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মাসে চারদিন সবগুলো প্রতিষ্ঠান একত্রে বন্ধ থাকলে ওই দিনের ক্রেতা-সাধারণ অন্য বাজারে ছুটে যান। এতে হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দিনে দিনে বাজারটি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। তাই, বিভিন্ন শহরের ন্যয় আমরা একদিক খোলা থাকলে অন্য দিক বন্ধ রাখতে চাই।
বিষয়টি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যবসায়ীদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে এসময় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, মাসে চারদিন বন্ধ থাকার কারণে হাজীগঞ্জ বাজারটি মৃতপ্রায়। এতে ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। তাই, চারদিনের পরিবর্তে মাসে দুইদিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার দাবি বাস্তবায়নে আমরা সমিতির পক্ষ থেকে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করবো।
সভায় ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাসুদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আবু কাশেম মুন্সী, প্রচার সম্পাদক ইমামুল হাসান হেলাল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু নোমান রিয়াজ, ওয়ার্ড কমিশনার মনির হোসেন সাগর, মো. মিজানুর রহমান, আমীর হোসেন, খোরশেদ আলম, মহিউদ্দিন মাইনু, মোশারফ হোসেন টিটু, তাপস সাহা, আল-আমিন, মানিক মজুমদারসহ অন্যান্য সদস্য ও কয়েক শতাধীক ব্যবসায়ী ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।