এ বছর গরুর দাম বেশী হওয়ায় আওয়ামী লীগ ঠিক করেছে আগামী ঈদ-উল আযহাতে (কোরবানীর ঈদ-এ) গরুর পরিবর্তে ৭ই জানুয়ারী ২০২৪-এ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসাবে যাদেরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে কোরবানী দেওয়া হবে।
২৬ শে নভেম্বর ২০২৩ আওয়ামী লীগের সভাপতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে যারা আগামী ৭ই জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে নেীকা মার্কা নিয়ে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছেন। তাদের মোট ৩৩৬২ জনকে গনভবনে আমন্ত্রন জানিয়েছেন। সেখানে তিনি যে ৩৩৬২ জন আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন তাদের উদ্দেশ্য বলেছেন- আমেরিকা সহ পশ্চিমা দেশগুলি চাইতেছে যে, যেহেতু ২০১৪ ও ২০১৮ নির্বাচন ভালো গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হয় নাই। তাই ২০২৪শের ৭ইং জানুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠ, গ্রহনযোগ্য ও অংশগ্রহন মূলক নির্বাচন যেন হয়। তারা চাইতেছে যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার উপস্থিতি হক এবং বাংলাদেশের সমস্ত দল নির্বাচনে অংশগ্রহন করুক। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে দেশে কে ক্ষমতায় আসুক না আসুক এটা নিয়ে তারা মাথা ঘামাবে না।
বাংলাদেশে দুটি বৃহত্তম দল একটি আওয়ামীলীগ অপরটি বিএনপি। দু-দলই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল। বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলি একদফা ও তত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছে। আমরা বলছি নির্বাচন সংবিধানের বাহিরে আমরা যেতে পারবোনা এবং দলিয় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামীলীগের সরকারের আমলেই নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে হবে। সংবিধানে তত্বাবধায়ক সরকারের কোন বিধান নেই। তাই বিএনপি, জামাত, ইসলামি আন্দোলন এবং সমমনা দলগুলি নির্বাচন ভয়কট করেছে।
তাই আওয়ামীলীগ ও সমমনা দলগুলি নির্বাচন করলে ৫০ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে আনা খুব কঠিন হবে। তাই আমরা ঠিক করেছি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়া ও ৫০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি করার জন্য স্বতন্ত্রপ্রার্থী দেওয়া খুব প্রয়োজন। তাই আমরা আওয়ামীলীগ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে দল থেকে আমরা নৌকা মার্কার বাহিরে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিবো। স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলে কেউ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় পাশ করতে পারবেনা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাশ করলে নির্বাচন প্রশ্ন বোদক হবে। স্বতন্ত প্রার্থীর সুবিদা হলো তারা অন্যান্য দলের সমর্থক ও দল করেনা নিরপেক্ষ ভোটার দের নিজের পক্ষে আনতে পারবে তখন ভোটার উপস্থিতি বাড়বে। এবং দেশ বিদেশে নির্বাচন ও গ্রহণযোগ্য হবে।
নৌকা মার্কা প্রতিক নিয়ে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের এই নির্বাচন করা এক কঠিন ব্যাপার হয়ে দাড়াবে। কারন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা এখন স্বাধীনতা পেয়েছে। নৌকা প্রার্থীর নির্বাচন ও করতে পারবে। এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন ও করতে পারবে। এতে দলের পক্ষ থেকে কোন আপত্তি থাকবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী যদি একজন হন ও নৌকা নমিনেশন প্রার্থী সহ তখন দুজনই দলীয় নেতাকর্মীদেরকে নিজের দিকে আনার চেষ্ঠা করবে। তখন আওয়ামীলীগের ভোট দু-ভাগ হয়ে যাবে। আর যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী দুজন হন নৌকার মনোনীত প্রার্থী একজন হন তখন প্রার্থী দাড়াবে তিন জন। তখন তিন জনই দলীয় নেতাকর্মীদেরকে নিজের দিকে আনার প্রাণ পন চেষ্ঠা করবে। তখন ভোট তিন ভাগ হয়ে যাবে। এসব ক্ষেত্রে নৌকা মার্কা সহ সব প্রার্থীকে প্রচুর পরিমাণ টাকা খরচ করতে হবে। এমন কি দলের ভিতর নিজেরা নিজেরা মারা মারি ও খুন খারাপি হতে পারে।
“কেউ কাউকে নাহি চাড়ে সমানে সমান”
এ অবস্থায় যিনি নৌকা মার্কা মনোনয়ন পেয়েছেন সেই প্রার্থীর পাশ করে আশা খুব কঠিন হবে। এবং সেই প্রার্থী মানুষিক, শারিরিক এবং অর্থনৈতিক ভাবে প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তার অবস্থা হয়ে দাঁড়াবে ঈদউল আযহার (কোরবানির ঈদ) কোরবানির পশুর মতো। দল থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাওয়া নৌকা মার্কা প্রার্থীকে হাত পা বেধে নদীতে নামিয়ে দিয়ে বলা হলো তুমি নদিতে সাতরিয়ে ওপর পারে যাও।
বাংলাদেশের ইতিহাসে শত বছরে ও নির্বাচন দেখে নাই।
হায়রে নৌকার প্রার্থী আপনাদের জন্য করুনা হয়।
বি দ্রঃ এই লেখাটি লেখার জন্য আওয়ামীলীগের নৌকা মার্কা মনোনয়ন পাওয়া কোনো প্রার্থী যদি মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমা করে দিবেন। আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আপনাদের এই করুন অবস্থা দেখে আমার বিবেক নাড়া দিয়েছে তাই আমি এই লেখাটি লিখেছি।
-লেখক
আবদুল মান্নান খান, সাবেক মেয়র, হাজীগঞ্জ পৌরসভা, সাবেক সভাপতি -উপজেলা বিএনপি, হাজীগঞ্জ। হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।